পটিয়ায় পুকুরের অস্বাস্থ্যকর পানিতেই তৈরি হচ্ছে মিষ্টি

পটিয়া চট্টগ্রাম

পটিয়ার কলেজ গেট সম্মুখস্থ বেশ কয়েকটি মিষ্টির দোকানে দেখা যায় মিষ্টি তৈরির উৎসব। তৈরিকৃত মিষ্টিগুলো রাখা হচ্ছে যত্রতত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। মিষ্টি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পানি। এখানে বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও প্রশাসনের দৃষ্টি নেই। আসছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ। এ নববর্ষকে বরণে চারদিকে যেমন সাজ সাজ রব ও বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি তেমনি একদিনেই লাখ লাখ টাকার মিষ্টি বিক্রি করতে দোকানিরা যেন এক মাস আগে থেকেই শুরু করে মিষ্টি তৈরির কাজ।

জানা যায়, পটিয়া কলেজ গেট সংলগ্ন বেশ কয়েকটা মিষ্টি তৈরির দোকান রয়েছে। যেখানে মিষ্টি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পটিয়া থানার সম্মুখস্থ জেলা পরিষদ মালিকানাধীন পুকুরের পানি। সরেজমিন দেখা যায়, এ পুকুরটি গত কয়েক বছর ধরে কচুরিপনায় আসক্ত। পানিগুলো যেন মেঘের চেয়েও কালো। যেখানে কেউ রোগব্যাধিতে আক্রান্তের ভয়ে পা ফেলতে ভয় পায়, সেই পুকুরের পানি দিয়েই তৈরি হয় মিষ্টি সামগ্রী। শুধু তাই নয়, এর আশপাশ এলাকাগুলো ও ময়লা আবর্জনাযুক্ত স্যাঁতসেঁতে। যা কেউ এক নজর না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে মিষ্টি কিনতে আসা জামাল উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখান থেকে মিষ্টি কিনি। সামনে নববর্ষ। এ নববর্ষে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে মিষ্টির চাহিদা থাকবে। যে কারণে ১/২ সপ্তাহ পূর্ব থেকে দোকানিরা মিষ্টি তৈরি করে জমা করে রাখছে। যা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলেই মনে হচ্ছে। মফিজুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, শুভ কাজের মিষ্টি যেন অশুভ বার্তা নিয়ে আসার জন্যেই এখানে তৈরি হচ্ছে, আমরা সুন্দর পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মিষ্টিসহ সব পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা চাই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। এতে পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করলে এক বছর কারাদ- অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করলে ১ বছর জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করলে ১ বছর কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জারিমানা, ধার্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য ওষুধ বা সেবা বিক্রয় করলে ১ বছর জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ভেজাল ওষুধ ও পণ্য বিক্রয় করলে তিন বছর জেল অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা, খাদ্যে পণ্য নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ করলে ৩ বছর কারাদ- অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করলে ২ বছর কারাদ-, ওজনে কারচুপি করলে ১ বছর কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, নকল পণ্য প্রস্তুত করলে ৩ বছর কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ কঠোর আইনের বিধান করা হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ এবং আমরা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় চট্টগ্রামের সব উপজেলায় কাজ করে যাচ্ছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত বেশ কয়েকটি দোকানকে ভেজাল মিষ্টি তৈরির অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও দোকানদারগণ সতর্ক না হলে তাদের বিরুদ্ধে কাঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About The Author

admin

Leave a Reply