ভেজাল সংবাদ

পুকুর দখল করে ভবন

রাজশাহীতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এলাকায় পুকুরের পাড় দখল করে ভবন সম্প্রসারণ করার অভিযোগ উঠেছে। মৌজা নকশা অনুযায়ী ভবনটি পুকুরের ৩৬ থেকে ৩৭ ফুট ভেতরে ঢুকে গেছে।
বিসিক কর্তৃপক্ষের দাবি, ওটা পুকুর নয়, পুকুরের পাড়। আর পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, পাড়ও পুকুরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয়।
রাজশাহীতে বিসিক এলাকায় সম্প্রতি ‘রাজশাহী সিল্ক’ নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের প্রধান বিক্রয়কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে পুকুরের ভেতরে স্থাপনা সম্প্রসারণ করছে।
বিসিক, রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়া ছাড়া বিসিক এলাকায় কোনো পুকুর বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম নেই।
সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিক্রয়কেন্দ্রটির পশ্চিম দিকে ভরাট করে তাদের স্থাপনা সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পুকুরের উত্তর পাশে দাঁড়ালে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ‘এল’ আকৃতি করে পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে স্থাপনাটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানান, যে জায়গায় স্থাপনা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, সেটি পুকুরের অংশবিশেষ ছিল। দিনে দিনে ভরাট করে ওই জায়গায় এখন স্থাপনা বাড়ানো হচ্ছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মৌজা নকশা অনুযায়ী পুকুরটির দক্ষিণ মাথার দৈর্ঘ্য রয়েছে ১৫৫ ফুট। বাস্তবে কয়েক দিন আগে তাদের সার্ভেয়ার সরেজমিন পরিমাপ করে দক্ষিণ মাথার দৈর্ঘ্য পেয়েছেন ১১৮ ফুট। এই হিসাবে ভবনটি পুকুরের ভেতরে ৩৭ ফুট ঢুকে গেছে। কীভাবে পুকুর ভরাট করে স্থাপনা সম্প্রসারণ করছেন—জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল কাদের ওরফে মুন্না বলেন, পুকুরের এই অংশ তাঁরা নতুন ভরাট করছেন না। আগে থেকেই ভরাট করা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী এটি তাঁদের বরাদ্দ পাওয়া জায়গা। বিসিক থেকে তাঁরা পরিকল্পনা অনুমোদন করিয়েই এই কাজ করছেন বলে দাবি করেন।
বিসিকের শিল্পনগর কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, রাজশাহী সিল্কের মালিক আবদুল কাদির ২০০৩ সালে ৪ হাজার ৪৭৫ বর্গফুটের একটি প্লট কিনেছিলেন। ওই বছরেই আবার তাঁকে ৪ হাজার ২৬৮ বর্গফুটের আরও একটি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বরাদ্দ করা অংশের মধ্যে পুকুরের পাড় রয়েছে। পুকুর নয়। তিনি বলেন, অনেক পুকুরের পাড় তাঁরা বরাদ্দ দিয়েছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আলম বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন ২০১০-এর ২-এর (ক) এবং ৬ (ঙ) ধারা মোতাবেক অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতিরেকে জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। পুকুর ভরাটের কাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, যেহেতু পুকুরের পাড় পুকুরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেহেতু পাড়েরও শ্রেণি পরিবর্তন একই আইনে দণ্ডনীয়।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, আসলে পুকুরের পাড় বরাদ্দ দেওয়ার নামে পুকুরই বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও বিসিক এলাকায় এভাবে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এভাবে পুকুর ভরাট চলতে থাকলে বিসিক এলাকায় আগুন লাগলে নেভানোর পানি পাওয়া যাবে না। পরিবেশও চরমভাবাপন্ন হয়ে যাবে।